ফ্রিল্যান্সিং গাইডলাইন । ফ্রিল্যান্সিং শিখুন অনলাইনে সম্পূর্ণ ফ্রী

মানুষ যখন ফ্রিল্যান্সিং করতে আগ্রহী হয় তখন একটা জিনিস মাথায় আসে তা হল আমি ফ্রিল্যান্সিং গাইডলাইন কিভাবে পাবো। কারণ যারা এই কাজের সম্পর্কে জানেন এবং অবগত আছেন তারা খুব দ্রুত অর্থ উপার্জন শুরু করতে চান।

যদিও আমি এর আগে ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে অনেক কথা বলেছি, ফ্রিল্যান্সিং শেখার বিষয়ে বেশি কথা বলিনি। তাই আজ আমি শুরু থেকে ধাপে ধাপে এটি সম্পর্কে সবকিছু আলোচনা করব যাতে যে কেউ এই পোস্ট থেকে বিষয়টি এক নজরে বুঝতে পারে যে ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো 2022 এ এসে। সুতরাং ফ্রিল্যান্সিং শিখুন অনলাইনে সম্পূর্ণ ফ্রী। আর আজকের এই ফ্রিল্যান্সিং গাইডলাইন এ ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে কিছু কথা বলবো এবং নতুনদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং কতটা প্রয়োজনীয় তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

ফ্রিল্যান্সিং কি ? 

আপনার মনে যদি প্রশ্ন জাগে ফ্রিল্যান্সিং বিষয় নিয়ে যে ফ্রিল্যান্সিং বলতে কি বুঝায় বা ফ্রিল্যান্সিং কাকে বলে তাহলে আমি নিঃস্বন্দেহে জানাতে চাই এটি একটি ডিভাইস ব্যবহার করে, মুক্তপেশা বেছে নেওয়া । ঘরে বসে আপনার ডিভাইসে ইন্টারনেট সংযুক্ত করে, কারোর থেকে কাজ বুঝে নিয়ে তার কাজটা করে দেওয়া । বিনিময়ে অর্থ উপার্জন হলো । এটা তো সরল উদাহারন ।

একটু ভিন্ন ভাবে বুঝি । আপনার ক্লায়েন্ট , তার একটা কাজ আছে, সেটা সে করাতে চায়। সে প্রয়োজন অনুযায়ি কাজটা আপনাকে দিল । আপনি বুঝে নেওয়ার পরে নিদিষ্টি সময় নিয়ে, কাজটা সুন্দর মত করে দিলেন । বিনিময়ে আপনি অর্থ পেলেন । 

আবার এভাবে যদি বলি, এটা এমন একটা পদ্ধতি, যে উপায়ে আপনি আপনার দক্ষতা ব্যবহার করে অন্যদের প্রয়োজন মিটাতে সক্ষম হলেন, সে কাজ পেয়ে খুশি ও আপনি অর্থ পেলেন । 

ফ্রিল্যান্সিং হলো একটা স্বাধিন পেশা, আপনি কাজ দাতার থেকে কাজ বুঝে নিলেন, কাজের পারিশ্রমিক ঠিক করে নিলেন, কাজের জন্য সময় নির্ধারন করে নিলেন, কাজ টা করে বুঝিয়ে দিলেন । তারও কাজটা হলো , আপনারও টাকা হলো । এই গোটা বিষয়টাই ফ্রিল্যান্সিং।

ফ্রিল্যান্সিং এর ইতিহাস 

ভদ্রলোক Walter Scott একজন সন্মানিত লেখক । উনি নাকি সর্বপ্রথম freelancing শব্দটা ব্যবহার করেছেন। ফ্রিল্যান্সার’রা ঘরে বসেই মানুষের কাজ করে উপার্জন করে থাকে । এ পেশার মাধ্যমে অনেকে প্রচলিত চাকরি থেকে বেশি আয় করে থাকেন, তবে সবসময়ই তা হয় না । ইন্টারনেটভিত্তিক কাজ হওয়াতে এ পেশার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি হাজারো লোকের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ ঘটে। ফ্রিল্যান্সিং এর শুরুটা ১৯৯৮ সালের দিকে । 

যাদের কাজ করানোর দরকার হয় তারা তাদের কাজের মানুষ খুজে বের করতে হয়, এবং যারা কাজ জানেন , তাদের কাজ খুজে বের করতে হয়। এই উভয় শ্রেনীর মানুষদের জন্য মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান বের হয় , যারা কাজের মানুষ খুজছে ও যারা কাজ খুজছে এমন ব্যক্তিদের এক স্থানে নিয়ে আসে।

এমন প্রতিষ্ঠানের মোধ্য ছিল GURU – এরা সর্বপ্রথম মধ্যস্থতাকারী ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস যা ১৯৯৮ সালে নাম পাল্টে softmoonlighter.com হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। 

জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতায় পরে Elance.com, RentAcoder.com, Odesk.com, GetAFreelancer.com, Freelancer.com, Limeexchange.com সহ আরো অনেক মধ্যস্থতাকারী মার্কেটপ্লেস প্রতিষ্ঠিত হয় । এই প্রতিষ্ঠান গুলো কাজ করিয়ে নেওয়া ও কাজ করে দেওয়া মানুষ গুলো কে একত্রিত করে । বর্তমনা ফাইবার/ফিবার ও আপওয়ার্ক বেশ জনপ্রিয় মধ্যস্থতাকারী মার্কেটপ্লেস । 

ফ্রিল্যান্সিং কেন করব?

বেচেঁ থাকা জন্য টাকা দরকার, টাকা আয় করতে চাইলে কাজ দরকার , আর কাজ করতে চাইলে স্বাথীনতা দরকার। ফ্রিল্যান্সিং এমন একটা শব্দ যা আপনাকে স্বাথীন কাজ সমূহের সাথে পরিচিত করিয়ে দিবে। এমন মানুষদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং । এখন যাদের বড় ব্যাবসা আছে, ভালো ও বড় চাকরি আছে তাদের কথা ভিন্ন্য ।

ধরুন আপনি কম্পিউটারের সাহায্য  খুব ভালো ভিডিও ইডিটিং করতে পারেন। আপনি মধ্যস্থতাকারী মার্কেটপ্লেস গুলোতে গিয়ে জানিয়ে রাখলেন আপনি ভিডিও ইডিটিং এর এই এই এই পারেন ।

সেটা দেখেই আপনাকে একজন বার্তা দিলো আমার একটা ভিডিও ইটিডিং করে দিতে হবে, এই এই কাজ । আপনি তখন তার সাথে দাম দর নির্ধারন করলেন, কাজের বিবরন নিয়ে আলচনা করলেন, সময় নির্ধারন করলেন , কাজ আপনার সুবিধা অসুবিধা বুঝে করে দিলেন, এগুলোর অনেকটাই আপনার ইচ্ছা মত করতে পারলেন, স্বাধীন মত করতে পারলেন । এটাই ফ্রীল্যানসিং।

আর আপনি যদি এমন ভাবে কাজই করতে চান, তাহলে ফ্রিল্যান্সিং আপনার জন্য । তবে ভিন্ন রুপও আছে, সুধু পজেটিভ কথা বললে হবে না । ফ্রিল্যান্সিং করতে গিয়ে অনেক সময় অনেক ওয়ার্কার কাজ দাতাদের, দ্বাসত্বের স্বীকার হয়। টাকা ও মধ্যস্থতাকারী মার্কেটপ্লেস গুলোতে নিজের অবস্থান ঠিক রাখতে দ্বাসত্বের স্বীকার হতে হয় । আর এই জন্য অভিজ্ঞ লোকদের মেনটরিংএ কাজ শিখতে ও শুরু করতে হয়। 

ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে করব ?

আপনার মাথায় যদি এই বিষয়ে সাড়া দেয় ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে করব ? তাহলে প্রথমেই একটি ব্যাপার মাথায় আসে আর সেটা হলো ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবো ?  আসলেই আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষের ফ্রিল্যন্সিং নিয়ে এখনো পর্যাপ্ত ধারণা নেই।

 সরকার ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টাকে খুব বেশি প্রমোট করায় তরুনদের মাঝে একটা আলোড়ন এসেছে, কিন্তু কাজ শিখতে গিয়েও প্রতারিত হচ্ছে । আর তাই তারা বিশ্বাস করতে পারেন না যে, ঘরে বসে আসলেই অনলাইনে উপার্জন আয় করা সম্ভব! আর হলেও কিভাবে সম্ভব ?

বাস্তবতা হলো বাংলাদেশের অনেক মানুষ ঘরে বসে ফ্রিল্যান্সিং করছেন, আর ফ্রিল্যান্সিং করে সফল হয়েছেন! তাই, অবশ্যই আমাদেরকে প্রথমে মাথায় রাখতে হবে, ফ্রিল্যান্সিং করেও উপার্জন করা যায়, এটা বাস্তব সত্য । 

এই উপার্জন অন্য যেকোন ১০ টা চাকরির থেকে নেহাত কম নয়! আর এই কারনে প্রযুক্তির সাথে সম্পৃক্ত তারা ধীরে ধীরে ফ্রিল্যাস্নিং এর প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন এবং ফ্রিল্যান্সিং করতে চাচ্ছেন। কিন্তু নতুন দের ক্ষেত্রে সব থেকে বড় বাধা হলো, তারা প্রথমে বুঝতে পারে না যে আসলে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে হয় কিভাবে এবং ফ্রীল্যানসিং গাইডলাইন এর ধাপগুলো।

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবো তার কিছু পয়েন্ট

  • প্রথমে আপনার ডিভাইস থাকতে হবে । ডেক্সটপ বা ল্যাপটপ ।
  • তাতে নেট কানেশন থাকতে হবে।
  • নিদিষ্ট্য একটা বিষয়ে খুব খুব খুব ভালো ভাবে কাজ শিখতে হবে । স্কিল ডেভলপ করতে হবে । ( কোন একজন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অধিনে হলে ভালো হয় )
  • কমিউনিকেশন স্কিল খুব খুব খুব ভালো থাকতে হবে।
  • অনলাইন ভিক্তিক কাজ দেয় বা পাওয়া যায় এমন প্রতিষ্ঠান যেমন: ফাইবার, আপওর্য়াক ইত্যাদিতে গিয়ে নিজেকে পরিচিত করিয়ে আপনার দক্ষতার বর্ণনা করতে হবে । এই বিষয়টাকে গিগ বলে। ( গিগ যাতে আপনার কাজ যারা খুজছে তাদের কাছে পৌছে এই ব্যাপারেও শিক্ষা অর্জণ করতে হবে )
  • তারপর আনার গিগ দেখে আপনাকে পছন্দ করে কাজ দিলে সেটা খুব ভালো ভাবে শেষ করে , তাকে কাজ বুঝিয়ে দিতে হবে । 
  • বিনিময়ে অর্থ পাবেন।

ফ্রিল্যান্সিং-ক্যারিয়ার-গাইডলাইন-

ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ সমূহ কি কি ?

একদম সোজ ভাষায় বললে আপনি যা জানেন তা দিয়েই কাজ শুরু করতে পারবেন। আপনি যে স্কিল ডেভলপ করেছে তা দিয়েই কাজ শুরু করতে পারেন । চলুন দেখে নেওয়া যাক যে ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ সমূহ কি কি:

  • লেখা লেখি
  • ডেটা এন্ট্রি
  • প্রোগ্রামিং
  • মার্কেটিং
  • টাইপিং
  • ডিজাইনিং
  • ইমেজ এডিটিং
  • প্রেজেন্টেশন তৈরি
  • ডেভেলপমেন্ট
  • ভার্চুলাল এসিস্ট্যান্ট সহ অনেক কিছু।

যদি এই বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা না থাকে তবে অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্সার এর কাছে আপনি সাহায্য নিবেন , এবং কাজ জানা না থাকলে আপনার পছন্দ অনুযায়ী কাজ বেছে নিয়ে শিখতে পারেন। আপনি যদি ফাইবার এ গিয়ে চেক করে দেখতে পাবেন অনেক ধরনের কাজ সেখানে পাওয়া যায়। 

ফাইবারে জনপ্রিয় কাজ গুলো

  • গ্রাফিক্স ডিজাইন ডিজিটাল
  • মার্কেটিং
  • রাইটং ও ট্রান্সলেশন
  • ভিডিও খুটিনাটি
  • অ্যানিমেশণ
  • মিউজিক ও অডিও ইন্জিনিয়ারিং
  • প্রোগ্রামিং
  • ওয়েব সাইট বানিয়ে দেওয়া

অনেক অনেক অনেক কাজ যা এভাবে বলতে থাকলে অনেক বড় হয়ে যাবে লেখা । 

ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজের চাহিদা বেশি?

সাম্প্রতিক এক গবেষনা এসছে  সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন দক্ষতা ও কাজ গুলো হচ্ছে 

  • ডেটা অ্যানালিটিক্স
  • ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট
  • মাইক্রোসফট অফিস
  • কপি টাইপিং
  • ট্রান্সক্রিপশন
  • রাশিয়ান ট্রান্সলেশন
  • বুককিপিং
  • ই-মেইল হ্যান্ডেলিং ও কাস্টমার সাপোর্ট।

যাঁদের এ ধরনের কাজে দক্ষতা আছে, তাঁরা চাইলে ফ্রিল্যান্সিং ক্ষেত্রে প্রচুর কাজ পাবেন ও  ভালো অর্থ আয় করতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সিং কাজের বৈশিষ্ট্য

ফ্রিল্যান্সিং কাজের সবথেকে মজার বৈশিষ্ট্য হলো আনলিমিটেড  সুবিধা। আপনি চাইলে আপনার বাসায় বসেই কাজ করতে পারবেন, চাইলে বাসার ছাদে বসে কাজ করতে পারবেন। 

মানে হচ্ছে যেখানে খুশি সেখানে বসেই ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করা যায়। তবে প্রফেশনাল মুড ঠিক রাখতে সুন্দর ডেক্স অবস্যই গুরুত্ব পূর্ণ ।

আপনার কাজের পারিশ্রমিক আপনি নিজেই ঠিক করতে পারবেন। যার কাজ ভালো লাগে তার কাজ করতে পারবেন, যার কাজ ভালো না লাগে তার কাজ জোর করে করার কোনো প্রয়োজন হবেনা।

চাইলে একসাথে অনেক জনের কাজ করতে পারবেন কেউ আপনাকে বাধা দিবেনা। এগুলোকে অভিজ্ঞরা বলে থাকি ক্লায়েন্ট প্রজেক্টস। ফ্রিল্যান্সিং কাজের এমন আরো হাজারো বৈশিষ্ট্য রয়েছে। রয়েছে স্বাধীনতা । 

ফ্রিল্যান্সিং করে কত আয় করা যায়

এই আয়ের কোন বাধা ধরা নিয়ম নাই । অনেকে, অনেক ভাবে আয় করে থাকে । কেউ কম কেউ বেশি । জয়িতা ব্যানার্জি নামের এক ফ্রিল্যান্সার এর আয় মাসে গড়ে ১ হাজার ৬০০ ডলার বা প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

মাদারীপুরের তরুণ  ফ্রিল্যান্সার মেহেদী হাসানের এখন ঘরে বসেই মাসে আয় করেন ১ লাখ টাকার মত। ফ্রিল্যান্সিং করে তৌহিদুরের জীবন বদলে গেছে , সেও আয় করে লাখ লাখ টাকা ।  তাই স্কিল ডেভলপ করাটাই মূল । টাকার পিছে দৌড়ানো যাবে না । 

কাদের জন্য এই মুক্ত-পেশা ? যারা এ পথে না আসলে ভাল করবেন

  • আপনার যদি আজই টাকা লাগে, আজ কাজ শরু করবেন কালকেই টাকা, তাহলে এই পেশা আপনার জন্য  না । আপনি যদি রয়ে সরে কাজ শরু করেন, লেগে থাকেন, তাহলে এটা আপনার জন্য মুক্ত পেশা ।
  • আপনাকে অনেক অনেক অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে । স্কিল ডেভলপ করতে অনেক সময় লাগবে । এই সময় যদি আপনার না থাকে তা হলে এই ফ্রিল্যান্সিং তাহার জন্য নয়, যদি অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জন করতে , স্কিল ডেভলপ করতে আপনার আপত্তি না থাকে তাহলে আপনার জন্যই এই কাজ  । 
  • এই কাজ করতে গিয়ে গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয় হলো কাজ দাতার সাথে কথা বার্তা বলে কাজ বুঝে নেওয়া । তার জন্য দরকার পরবে ইংরেজীতে কথা বার্তা বলতে পারার দক্ষতা । এই কমিউনিকেশন স্কিল যদি আপনার না থাকে তাহলে এই কাজ আপনার জণ্য না, কিন্তু আপনার যদি কমিউনিকেশন স্কিল খুব ভালো হয় তাহলে আপনার ভবিষৎ উজ্জল । 
  • ফ্রিল্যান্সিং করে শর্ট কার্ট ইনকামের কোন সুজক নেই । যারা শর্ট কার্ট টাকা আয় করতে চান তাহলে এই পেশা থেকে দূরে থাকাই ভালো । 
  • সৎ ও হালাল ইনকাম করতে চাইলে ফ্রিল্যান্সিং হতে পারে আপনার জন্য অনেক বড় একটা অপরচুনেটি, যদি আপনার অসৎ উদ্দেশ্য থাকে তাহলে আপনার প্রতি অনুরোধ এটাই জগৎএ আসবেন না, তাতে যারা কাজ করে খাচ্ছে, তাদের সুজক গুলোও নষ্ট হয় ।

কিভাবে ফ্রিল্যান্সার একাউন্ট খুলবো?

এর জন্য প্রথমে আপনাকে যেতে হবে freelancer.com এই ওয়েবসাইটে। আমরা ফাইবার এর অ্যাকাউন্ট খুলে দেখানোর চেষ্টা করবো ভবিষৎ এ । 

 ফ্রিল্যান্সার.কম গিয়ে নিচের দেওয়া ধাপ গুলো অনুসারন করে আপনি ফ্রি ফ্রিল্যান্সার একাউন্ট তৈরি করতে পারবেন।

১ম ধাপ: Freelancer.com ওয়েবসাইটে যাওয়ার পর, আপনি প্রথম পেজে Earn money freelancing নামের একটি লিংক দেখতে পাবেন। এই লিংকে ক্লিক করার পরে একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করার জন্য ফর্ম পাবেন। শুরু হবে রেপিস্ট্রেশন কার্যক্রম । 

২য় ধাপ: সেখানে একটি sign up পেজ দেখতে পাবেন। সেখানে দুইটি ভাবে ফ্রিল্যান্সার একাউন্ট তৈরি করতে পারবেন।

  1. আপনার Email id ব্যবহার করে।
  2. এবং আপনার Facebook account ব্যবহার করে।
  3. ইমেইল ব্যবহার করে অ্যাকউন্ট করাই ভালো । 
  4. প্রথমে বক্সে গিয়ে নিজের ইমেইল আইডি লিখুন।
  5. দ্বিতীয় বক্সে গিয়ে পাসওয়ার্ড দিবেন।
  6. এবার আপনি I agree to Freelancer user agreement and privacy policy অপশনে ক্লিক করুন।
  7. শেষে নিচে থেকে Join Freelancer অপশনে ক্লিক করুন।

৩য় ধাপ: এবার আপনাকে username দিতে বলা হবে। নাম দেওয়ার পরে Suggestions এ আপনাকে কিছু username দেখাবে, আপনি চাইলে সেখান থেকে একটা সিলেক্ট করতে পারবেন, আবার নিজের মত করেও দিতে পারবেন। সঠিক ভাবে username সিলেক্ট করে নিচে থাকা Next বাটুনে ক্লিক করুন।

 ৪র্ থ ধাপ: এবার আপনাকে একাউন্টের প্রকার বেছে নিতে হবে। আপনি যদি টাকা আয় করার জন্য freelancer account তৈরি করতে চান তাহালে I want to work অপশনে ক্লিক করতে হবে।

আর যদি অন্য freelancers দের দিয়ে টাকার বিনিময়ে কাজ করানোর উদ্দেশ্যে account তৈরি করতে চান তাহালে I want to hire অপশনে ক্লিক করবেন। আপনি যেহেতু কাজ করতে চান সেহেতু I want to hire অপশনে ক্লিক করুন।

৫ম ধাপ: আপনার একাউন্ট সাইন আপ করার প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেছে। এবার আপনাকে একটি পেজ দেখাবে যেখানে আপনি নিজের স্কিল (skills) গুলো সিলেক্ট করতে পারবেন।

আপনি কি কি কাজ জানেন এবং কি কি কাজ করে টাকা আয় করতে চান, সেই কাজ গুলো সিলেক্ট করুন। মনে রাখবেন এখানে আপনি যে কাজ গুলো সিলেক্ট করবেন সেই হিসাবে ফ্রিল্যান্সার এর তরফ থেকে প্রজেক্ট গুলো দেখানো হবে। 

আপনি নিজে যে সকল কাজ গুলো জানেন সেই কাজ গুলো সিলেক্ট করে নিচে থাকা Next Step অপশনে ক্লিক করুন।

৬ষ্ট ধাপ:  এবার আপনাকে একটি পেজ দেখানো হবে, সেখানে আপনার profile এর সাথে জড়িত সকল details দিতে বলা হবে যেমন –

  1. প্রথমে আপনাকে একটি প্রোফাইল পিকচার আপলোড করতে হবে।
  2. এবার আপনার সম্পর্ন নাম দিতে হবে।
  3. এরপরে আপনি কি কি ভাষা জানেন সেই ভাষা গুলো সিলেক্ট করতে হবে।
  4. শেষে আপনাকে কাজের experience বিষয়ে বলে দিতে হবে।
  5. সব শেষে নিচে থাকা Next Step বাটুনে ক্লিক করন।

৭ম ধাপ: এবার আপনাকে payment method যুক্ত করে সেটাকে verify করার জন্য বলা হবে। এখানে আপনি Credit / debit card বা PayPal account ব্যবহার করার জন্য বলা হবে। তবে, এই কাজ গুলো আপনি পরেও করতে পারবেন। এজন্য নিচে থাকা Skip for now বাটুনে ক্লিক করুন।

৮ম ধাপ: এবার আপনাকে একটি Promotion পেজ দেখানো হবে। মানে কিছু টাকা দিয়ে freelancer ওয়েবসাইটের তরফ থেকে plus membership নিয়ে থাকে। কিন্ত আপনি যেহেতু নতুন সেহেতু নেওয়ার প্রয়োজন মনে করছি না। এজন্য skip for now অপশনে ক্লিক করুন।

আপনার freelancer account তৈরি করা সম্পর্ন হয়ে গেছে। আমি আশাকরি কিভাবে ফ্রিল্যান্সার একাউন্ট খুলবো এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর পেয়ে গেছেন। এবার আপনাকে যে প্রজেক্ট বা কাজ গুলো করতে চান সেগুলোতে ক্লিক করে বিড করতে হবে।

নতুনদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং টিপস

হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নিয়েই তো আপনি কাজ করতে পারবেন না , আপনার কিছু কমন জিনিষ সব সময় লাগবে । সেই গুলোই টিপস আকারে আপনাদের বলবো।

  1. ‌বেসিক কম্পিউটার জ্ঞান
  2. ইন্টার‌নেট ব্যবহার ব্যাসিক দক্ষতা ।
  3. কোন একটা বা দুইটা কাজে অ্যাডভান্স লেভেলের কাজ যানা থাক।
  4. ইং‌রে‌জি দক্ষতা

এগুলো খুব খুব কমন বিষয় । এগুলো আপনার থাকতেই হবে । 

বেসিক কম্পিউটার জ্ঞান:

এই প্রযু‌ক্তি‌নির্ভর বি‌শ্বে ক‌ম্পিউটার এক‌টি অ‌বি‌চ্ছেদ্য অংশ৷ আর ফ্রিল্যান্সার‌দের জন্য ক‌ম্পিউটার যেন সফল হওয়ার গেটও‌য়ে৷ কারণ অনলাই‌নে ক্লা‌য়েন্টরা যেসব কাজ দি‌য়ে থা‌কেন তা সম্পন্ন করার জন্য ক‌ম্পিউটারই একমাত্র স‌র্বোচ্চ কার্যক্ষমতা সম্পন্ন ডিভাইস৷ মোবাই‌লে সব সেক্ট‌রের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করা কখনই সম্ভব নয়৷ আর ক‌ম্পিউটা‌রের বে‌সিক কাজ যেমন ওয়ার্ড, এ‌ক্সেল, টাই‌পিং, গুগল ড্রাইভ ইত্যাদি কাজ জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷

ইন্টার‌নেট ব্যবহার ব্যাসিক দক্ষতা:

যে‌হেতু ফ্রিল্যান্সিং এর কাজগু‌লো অনলাই‌নে করা হ‌য়ে থা‌কে সে‌হেতু ইন্টার‌নেট ব্রাউ‌জিং জানার কো‌নো বিকল্প নেই৷ সার্চ ই‌ঞ্জিন, যেকোন কিছু রির্সাস করে সমাধান বের করার দক্ষতা এবং বি‌ভিন্ন সফটওয়্যারের কাজ জানা থাকলে কাজ করার সময় কো‌নো বাঁধার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা থা‌কেনা৷

কোন একটা বা দুইটা কাজে অ্যাডভান্স লেভেলের কাজ যানা থাকা: আপনি তো কাজ করে টাকা আয় করবেন তাই না ? তাহলে আপনাকে বেশ ভালো ভাবে কাজ শিখে শুরু করতে হবে । প্রথম দিকে কি কি কাজ করবেন , তা আপনার মন মস্তিষ্ক দিয়ে চিন্তা করবেন ।

ইং‌রে‌জি দক্ষতা:

ইং‌রে‌জি ভাষা সব কর্মক্ষে‌ত্রেই এক‌টি অত্যাবশ‌কীয় দক্ষতা৷ ফ্রিল্যান্সিং এর বেলায়ও ‌সে‌টি ব্যতিক্রম নয়৷ ইং‌রে‌জির দক্ষতা কাজ পে‌তে, ক্লা‌য়েন্ট এর সা‌থে যোগা‌যোগ কর‌তে ও মা‌র্কেট‌প্লে‌সে নি‌জের অবস্থান তৈ‌রি কর‌তে অন্যতম হা‌তিয়ার হি‌সে‌বে কাজ ক‌রে৷

ফ্রিল্যান্সিং এ বে‌শিরভাগ ক্লা‌য়েন্টই বি‌দেশী, তাই ক্লা‌য়েন্ট‌দের সা‌থে কাজ করার জন্য ইং‌রে‌জি লিখা ও বলায় পারদর্শীতা সর্বপ্রথম আবশ্যক৷ তারা স্কাইপ, মে‌সেন্জার, লিংকইন এর মত প্ল্যাটফ‌র্মে আপনার ইন্টার‌ভিউ ইং‌রে‌জি‌তে নি‌য়ে থা‌কে৷ সে‌ক্ষেত্রে কমিউ‌নি‌কেট কর‌তে না পার‌লে ফ্রিল্যান্সিং জগ‌তের প্রতি‌যোগীতায় আপ‌নি একদম পেছ‌নে প‌ড়ে যা‌বেন৷

ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য ল্যাপটপ

ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য কোন ল্যাপটপ ভাল এ বিষয় বলতে আমাদের সাধারণত আগে জানতে হবে যে ফ্রিল্যান্সিং এর কোন সেক্টরে আপনি কাজ করতে চান। তবেই বলা যাবে যে ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য কোন ল্যাপটপ ভালো।

  1. এসইও SEO search engine optimization ( ল্যাপটপ হলে চলবে ) 
  2. ভিডিও এডিটিং video editing  ( ল্যাপটপে কঠিন হবে )
  3. ডিজিটাল মার্কেটিং digital marketing ( ল্যাপটপ হলে চলবে ) 
  4. ওয়ার্ডপ্রেস WordPress ( ল্যাপটপ হলে চলবে ) 
  5. গ্রাফিক্স ডিজাইন graphics design ( ল্যাপটপে কঠিন হবে )
  6. ওয়েব ডিজাইন web-design ( ল্যাপটপে কঠিন হবে )
  7. ওয়েব ডেভেলপমেন্ট web-development  ( ল্যাপটপ হলে চলবে ) 
  8. ভিডিও এডিটিং video editing  ( ল্যাপটপে কঠিন হবে )

নোটঃ এখানে ৩০ হাজারের মোধ্য যে ল্যাপটপ গুলো আছে, সেগুলোকে স্ট্যান্ডার্ট ধরে লেখা হয়েছে ।  

ফ্রিল্যান্সিং শিখুন মোবাইলে

আপনার কি কম্পিউটার নেই ? তবে আপনি চাইলে মোবাইল দিয়েই ফ্রিলান্সিং শুরু করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনি কিছু সুযোগ সুবিধা কম পাবেন কিন্তু মোবাইল দিয়েও ফ্রিলান্সিং করা যায়। 

আপনি চাইলেই মোবাইল দিয়ে গ্রাফিক্স ডিজাইন বা অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট করতে পারবেন না কিন্তু ফ্রিলান্সিং এর অনেক কাজ আছে যেগুলো মোবাইল দিয়েই করা সম্ভব। যেমন – ট্রান্সলেট, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং,  লিখালিখি করা, ডাটা এন্ট্রি, সহ আরো অনেক কাজ।

মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং এর কি কি কাজ করা যায়

ইউটিউবঃ অনেকেই ইউটিউব অ্যাকাউন্ট তৌরি করা ম্যানেজ করা সহ অনেক কাজ ফ্রিল্যান্সার ভারা করে থাকে। সে ক্ষেত্রে কাজটা ভালো করে যানা থাকতে হবে ।

সোশ্যাল মিডিয়াঃ সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বলতে বুঝানো হয় ফেইসবুক, ইন্সটাগ্রাম সহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ার বিজনেস পেইজগুলো দেখাশোনা করা। বিভিন্ন কোম্পানি বা দোকানের পেইজগুলোতে আপনি মোডেরেটর হিসেবে কাজ করতে পারেন। এই কাজটাও মোবাইলে সম্ভব । তাই ভালো করে কাজ শিখে রেডি হয়ে যান।

ব্লগিং/ কন্টেন্ট রাইটারঃ মোবাইল দিয়ে লেখা লেখি করা কোন ব্যপারই না । আপনি যদি গ্রাহকের চাহিদা মোতাবেক লেখা দিতে পারেন , তাহলে তো কথাই নেই । আর এই কাজটা মোবাইলে সম্ভব । 

ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ সমূহ

সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার এর কাজ

একজন সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজারের আসল কাজ হল কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে গ্রাহকদের সম্পর্ক স্থাপন করা। কোম্পানির ক্যাম্পেইনিং, কন্টেন্ট তৈরি  থেকে শুরু করে গ্রাহকদের যেকোন প্রশ্নের তাৎক্ষণিক উত্তর দেয়া ও যেকোন তথ্য দেওয়া ও মিডিয়া ম্যানেজারের কাজ । ফাইবার ও আপওয়ার্কে এই কাজের এখন প্রচুর প্রচুর কাজ পাওয়া যায়।

লেখক বা আর্টিকেল রাইটিং এর কাজ

এই কাজের এখন অনেক চাহিদা । কারন সব বিষয়ে লিখিত কিছু দরকার হয়’ই । চাইলেও তাই লেখক এড়িয়ে যাওয়া যায় না । কোন একটা ব্লগ এর প্রাণ হচ্ছে লেখা । লেখারও অনেক অনেক ধরন থাকে । এক একটি বিষয়ে একজন ভালো লেখক লিখে থাকে । এই কাজের চাহিদা সব সময় থাকে।

ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট/সহকারীর কাজ

এই কাজ বেশ গুরুত্বপূর্ন ও ভাড়ি কাজ । একজন ব্যাাক্তি তার একটি অনলাইন প্রতিষ্ঠানের সকল দায় দায়িত্ব আপনার হাতে তুলে দিবে । আপনাকে সেই প্রতিষ্ঠানের জন্য যা যা করার তাই তাই করতে হবে ।

সেটা টাকা দিয়ে করিয়ে নেওয়া হোক । নিজে করেন – যা খুশি যেভাবে খুশি করে দেন । এটা একটা কম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর এর কাজরের মত । কম্পানির মালিক সুধু আপনার থেকে কম্পানির খোজ নিবে, কম্পানি কিভাবে চালাবেন তার পুরো দায়িত্ব আপনার উপর । ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট/সহকারীর কাজ অনেকটাই এমন।

গ্রাফিক্স ডিজাইনার/ইলাস্ট্রেটর এর কাজ

আজ কাল সামনে যা আসে ও দেখা যায়, তা হলো ডিজাইন এর রুপ রেখা। ওয়েব সাইট, ইউটিয়ুব, ব্লগ, টিশার্ট, ব্যানার পোস্টা যা কিছু দেখি তা গ্রাফিক্স/ইলাস্ট্রেটর ব্যাতিত সম্ভব না । তাহলে বুঝুন কত কাজ আছে এই বিষয়ের ।

অনলাইন টিউটর এর কাজ।

আপনি কলেজের স্টুডেন্ট হন বা একজন হোম টিচার,হয়তো আপনি পড়াবার মত লোকালে খুব বেশি স্টুডেন্ট পাননা বা কম বেতন দেয়। কিন্তু ইন্টারনেটের দৌলতে অনলাইন টিউটর দ্বারা আপনার নলেজ কে এখন গোটা পৃথিবীর সঙ্গে শেয়ার করতে পারবেন আর সঙ্গে ভালো পারিশ্রমিক ও পাবেন। জিহাঁ বহু ছাত্র- ছাত্রী এবং শিক্ষকেরা অনলাইন টিচিং করে মাসে হাজার হাজার টাকা আয় করে নিচ্ছেন।

ডিজিটাল পণ্য বিক্রি করুন

আজ কাল তো এই পদ্ধতির কাজ  করে  লাখ লাখ টাকা , আসলে টাকা নয় লাখ লাখ ডলার আয় করছে মানুষ । অ্যাফেলিয়েট হলো তার অণ্যতম উপায় যেটাকে বিশেষ ডিজিটাল পন্য বিক্রয় করে আয়ের মাধ্যম ।

ডিজিটাল পন্য বিক্রয় করতে চাইলে কোন কোন মাধ্যমে কে কাজে লাগানো যায়?

  1. আমাজন মার্কেটপ্লেস এর মাধ্যমে
  2. ফ্লিপকার্ট মার্কেটপ্লেস দ্বারা অনলাইন বিক্রি
  3. নিজের একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করুন
  4. প্রিন্ট অন ডিমান্ড নিয়ে কাজ করুন ।
  5. কেডিপি
  6. মার্চন্টে নিয়ে কাজ করুন ।
  7. ইবুক

ইউটিউবে কনটেন্ট তৈরি করা

এটা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নাই । এটা প্রায় সকলেই জানে যে আজকাল ইউটিয়ুব দিয়ে কি করা যাচ্ছে । আপনার যদি কনেটেন্ট তৈরী করার মত মেধা থাকে তাহলে আপনার এক সেকেন্ডে ও বসে থাকা উচিত না। এতে আপনি ফেইম কামাবেন আর কামাবেন অর্থ । আপনি জনপ্রিয় হওয়ার সাথে সাথে আপনার আয় এর আরো অনেক মাধ্যম বের হবে ।

ইউটিয়ুবে একটা চ্যানেল কে ভালো অবস্থানে নিতে পারলে সেখান থেকে নূন্যতম তিনটি উপায়ে ইনকাম করা যায় । ১) অ্যাডসেন্স মনিটাইজেশন ২) অ্যাফেলিয়েট ৩) স্পন্সর ।

ফ্রিল্যান্সিং বাংলাদেশ

দুনিয়াটা এখন তথ্য প্রযুক্তির। অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং কোর্স করে এগিয় যাচ্ছে বিশ্ব । বিশ্ব চলে এসেছে হাতের মুঠোয়। এখন ঘরে বসে যেমনি সারা বিশ্বের খোঁজ-খবর রাখা যায়, ঠিক তেমনি ঘরটাও হতে পারে কর্মস্থল। সেটা সম্ভব ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং করে ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এই সেক্টরে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নেয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। তারপরেও রয়ে গেছে কিছু সমস্যা। এগুলোর সমাধান করা গেলে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টর হতে পারে দেশের সবচেয়ে বড় রেমিটেন্স আয়ের খাত।

সৃষ্টি হতে পারে লাখ লাখ নতুন কর্মসংস্থান, যা দেশের বেকারত্বে সমস্যা সমাধানে বিরাট ভুমিকা রাখতে পারে। এজন্য ব্যক্তি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সরকারি উদ্যোগে আরো কিছু পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন, এমনটাই মনে করছেন এই সেক্টরের ফ্রিল্যান্সার ও বিশিষ্টজনেরা।

শীর্ষ কিছু বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট এর খোজ

  1. Workedbd , এই ওয়েবসাইটি সম্পুর্ন রূপে একটি ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট না হলেও মাইক্রো জবস করে টাকা ইনকামের  জন্য এই সাইটি অসাধারণ একটি ওয়েবসাইট। মাইক্রোজবস বলতে ছোটো ছোটো কিছু কাজকে বোঝানো হয়।  যেমন : কোনো ওয়েবসাইটে একাউন্ট করা, কোনো সাইটে সাবস্ক্রাইব করা, কাউকে টুইটার বা ইনস্টাগ্রামে ফলো করা ইত্যাদি সব কাজই মাইক্রোজবস। যদিও এই ধরনের কাজ সবার পছন্দ নয় তবুও আমার কিছু পাঠক ভাই এই ধরনের কাজ করে অনলাইনে ইনকামের চিন্তায় থাকে। তাদের জন্য এই ওয়েবসাইটি আদর্শ হবে।
  • Truelancer বাংলাদেশের শীর্ষক ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং সাইটগুলোর মধ্যে জনপ্রিয় একটি ওয়েবসাইট। প্রচুর পরিমানে কাজের সু্যোগ রয়েছে তাই ভালো ইনকামের সু্যোগটাও থাকছে। এই সাইটের একটি বিষেশত্ব হল ওয়েবসাইটি শুধু বাংলাদেশ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং ইন্টারন্যাশনাল ক্লায়েন্টদেরও চলাচল হয় এই সাইটে, তাই মোটা অংকের প্রজেক্টও পাওয়া যায়। এই ওয়েবসাইটেও ওয়েব ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট,  মার্কেটিং,  গ্রাফিক্স ডিজাইন, এসইও,  কন্টেন্ট রাইটিং সহ আরো বেশ কিছু দক্ষতার ওপর কাজ পাওয়া যায়।
  • Sadhinkaj ( স্বাধীন কাজ ) এই ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্মটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের জন্য উদ্ভাবন করা হয়েছে। ওয়েবসাইটে কারেন্সিও বাংলা টাকায় দেখানো হয়। নতুন ফ্রিল্যান্সার দের জন্য Touch IT Solution এর উদ্ভাবিত এই মার্কেটপ্লেসটি কাজ পাওয়ার একটি অন্যতম সুযোগ। এখানে ফ্রিল্যান্সার হায়ার করেও বিভিন্ন প্রকারের কাজ করিয়ে নেয়া যায়। যারা ইংরেজিতে দুর্বলতার জন্য বড় মার্কেটপ্লেসে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না তারা Sadhinkaj কে কাজের জন্য বেছে নিতে পারেন, কারন এই সাইটটি সম্পুর্ন বাংলা ভাষাভাষী দের সুবিধার্থে ডেভলপ করা হয়েছে।
  •  outsourcemyjob বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্বস্ত একটি ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট। এদের দাবি অনুসারে এটি বাংলাদেশের প্রথম ফ্রিল্যান্সিং সাইট। কম্পিটিশন অনেক কম হওয়ার নতুন ফ্রিল্যান্সার দের জন্য এটি একটি আদর্শ ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্ম হবে। ওয়েব ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট,  গ্রাফক্স ডিজাইন, লোগো ডিজাইন,  অ্যাপ ডেভলপমেন্ট,  এসইও, ডাটা এন্ট্রি,  এডমিন জবস সহ বিভিন্ন ধরনের জবস পেয়ে যাবেন এই মার্কেটপ্লেসে।
  • belancer সাইটি বাংলাদেশের একটি অন্যতম জনপ্রিয় এক ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং সাইট। ওয়েবসাইটিতে প্রায় ৫৪ হাজার ফ্রিল্যান্সার যুক্ত হয়ে টাকা আয় করছে। এই পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার জব পোস্ট করা হয়েছে ও সম্পূর্ন কাজের মুল্য প্রায় ৩ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা। নতুন ফ্রিল্যান্সার দের জন্য এটি একটি সফলতার চাবিকাঠি হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশাবাদী। এদের পেমেন্ট সিস্টেমে রয়েছে পেপার,  মাস্টার কার্ড,  ভিসা কার্ড  এবং বাংলাদেশিদের জন্য বিকাশে পেমেন্ট নেয়ার সুবিধা রয়েছে। বিশ্বসত্বতার প্রশ্নে এই সাইটের দিকে আঙুল তোলার কোনো সুযোগ নেই।

ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট

বিশ্ব ব্যাপি জনপ্রিয় কিছু  ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটের নাম আপনাদের জানাবো।

  1. Upwork.Com – Best Freelancing Website
  2. Fiverr.Com – Freelance Services Marketplace
  3. Freelancer.Com – Hire the best freelancers for any job, online
  4. Guru.Com – Get A Suitable Freelance Job
  5. PeoplePerHour.Com – Best Outsourcing Website
  6. 99Designs.Com – Freelance Website For Designers
  7. IFreelance.Com – One Of The Best Freelancing Site
  8. SimplyHired.Com – Get A Online Job
  9. Toptal – Best Professional Freelancing Website

ইত্যাদি আরো অনেক সাইট আছে । তবে এগুলো বিশ্বস্ত ও নির্ভর যোগ্য ।

ফ্রিল্যান্সিং শিখুন অনলাইনে সম্পূর্ণ ফ্রী

অনেকেই গুগোলে সার্চ করেন ফ্রিল্যান্সিং কোর্স ইন বাংলাদেশ, তা অধিকাংশ আসে পেইড কোর্স । আদতে  অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং শিখতে গেলে একমাত্র পন্থা হলো ১) বেশি বেশি ব্লগ পড়া ২) ইউটিয়ুব এর ভিডিও থেকে শিক্ষা নেওয়া । এই দুটা উপায়েই অনেক অনেক ভালো শিখতে পারবেন । তবে আজকাল অনেক পেইড কোর্স ও মেন্টর পাওয়া যায় । আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার কেমন হবে তা নির্ভর করবে আপনার পরিশ্রমের উপর নির্ভর করবে ।

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গাইডলাইন এর জন্য আপনার বিভিন্ন কোর্স থেকে অথবা ফ্রি সোর্স থেকে শিখতে পারেন তবে আপনার মনে যদি শুরু থেকেই ফ্রিল্যান্সিং ইনকাম এর চিন্তা থাকেন তাহলে স্কিল ডেভেলপমেন্ট আপনার জন্য নয়।

আমরা চেষ্টা করবো ফ্রিল্যান্সিং a to z, ফ্রিল্যান্সিং উপকারিতা, ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস, ফ্রিল্যান্সিং শেখার প্রতিষ্ঠান, ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট ইত্যাদি সমস্ত বিষয় নিয়ে তুলে ধরতে যাতে আপনারা সমস্ত ইনফরমেশন এক জাগাইতেই পেয়ে যান।

তবে ফ্রিতেই সম্ভব যদি আপনি পর্যাপ্ত সময় ব্লগ ও ইউটিয়ুব এর পিছনে সময় দেওয়া যায়।

আশা করা যাই যায় ফ্রীল্যানসিং গাইডলাইন আপনাদের খুবই কাজে আসবে আমি চেষ্টা করেছি ফ্রীল্যানসিং নিয়ে প্রত্যেকটা বিষয় তুলে ধরার। যদি আপনাদের কোনো প্রশ্ন থেকে থাকে এই ফ্রিল্যান্সিং গাইডলাইন নিয়ে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানিয়ে দিবেন।

6 thoughts on “ফ্রিল্যান্সিং গাইডলাইন । ফ্রিল্যান্সিং শিখুন অনলাইনে সম্পূর্ণ ফ্রী

  1. অসাধারন লেখনি। আমি একজন নতুন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে অনলাইনে কাজ শুরু করেছি অনেক আগে দেখেছি তবে এক জায়গায় অনেক ইনফরমেশন বা পরিপূর্ণ ইনফরমেশন পাওয়া যাবে এরকম আর্টিকেল এটি আমার চোখে পড়েছে। আশা করব ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়োগ প্রক্রিয়া ইনফরমেটিভ একটি আর্টিকেল আমাদের দেবেন, অপেক্ষায় থাকলাম

  2. I have got every single piece of information here that’s the important part for me. Thanks for Writing this kinda article where we can find all info together. I hope every article will be like this article.

  3. ফ্রিল্যান্সিং এ কোন কাজ গুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং সেই কাজগুলো কিভাবে শুরু করা যেতে পারে বিস্তারিত যদি একটু জানাতেন আপনে? মূলত আমি ডিজিটাল মার্কেটিং এর ভেতরেই থাকতে চাচ্ছি যে এমন কোন কাজ দিয়েছিলাম মার্কেটের ভিতরে যা ভবিষ্যতের জন্য খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

  4. I am new freelancer but I have a question about skills. I wanna learn specific skill but I Don’t know how much take time to learn that skill. Could you Please explain me thus matter?

  5. I don’t have any idea about the history of freelancing. this is the first time I read the story. Great piece of information. I hope we are going to get more information on this topic.

Leave a Reply

Your email address will not be published.