ডিজিটাল মার্কেটিং (Digital Marketing) | A To Z Guideline In 2022

প্রযুক্তির এই যুগে আমাদের জীবনে লেগেছে আধুনিকায়ন এর ছোঁয়া। দৈনন্দিন জীবনে প্রায় সকল ক্ষেত্রে প্রযুক্তির আশীর্বাদের ফলে পাল্টে গিয়েছে আমাদের জীবনের গতিপথ। তেমনি বিজনেস সেক্টরে প্রযুক্তির এক আশীর্বাদের নাম হল ডিজিটাল মার্কেটিং। 

বর্তমান সময়ে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর প্রতিষ্ঠান এবং বৃহৎ থেকে বৃহত্তর প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল মার্কেটিং এ ভর করে নিজেদের ব্যবসাকে ঢেলে সাজিয়েছে। প্রতিষ্ঠান সমূহ মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে নতুন এই পদ্ধতি গ্রহণের ফলে নিজেদের সফলতার উচ্চাসীন আসনে পৌঁছে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। তাই প্রযুক্তির এই যুগে ব্যবসাকে সমৃদ্ধ করার কথা চিন্তা করলে ডিজিটাল মার্কেটিং ছাড়া তার বিকল্প নেই। ইচ্ছে করলে আপনি ফ্রীল্যানসিং ও করতে পারবেন।

অনলাইন মার্কেটিং কি

বেশ কিছুদিন পূর্বেও কোন পণ্য কেনার জন্য, আমাদের নির্দিষ্ট দোকানে গিয়ে কিনতে হতো। কিন্তু কোন পণ্য কেনার ক্ষেত্রে পণ্যের গুনাগুণ দেখে যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ বেশ সীমিত ছিল। তাই সেই থেকে মানুষ কেনাকাটার লক্ষ্যে বিকল্প পথের সন্ধানে বেরিয়েছে। 

বর্তমানে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বেশিরভাগ কাজ পরিচালিত হয়  অনলাইন ভিত্তিক। তাই মানুষের দিনের বেশিরভাগ সময় থাকে অনলাইনে। আর ক্রমবর্ধমান মানুষের চাহিদার কথা মাথায় রেখে ইন্টারনেটকে কাজে লাগিয়ে অনলাইন ভিত্তিক কোন পণ্যের মার্কেটিং করাকে বলা হয় অনলাইন মার্কেটিং। 

সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তির কল্যাণে অনলাইন মার্কেটিং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কারণ অনলাইন মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকগণ পণ্যসমূহ যাচাই-বাছাই করে কেনার সুযোগ হয়। ঘরে বসে নিজেদের কাংখিত পণ্য হাতে পেয়ে রিটার্ন পলিসি গ্রাহকদের অনলাইন মার্কেটিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় কারণ বলে চিহ্নিত হয়। 

তাই যুগের চাহিদার কথা মাথায় রেখে, প্রতিষ্ঠানসমূহ নিজেদের বিজনেস পরিচালনা করছে, অনলাইন মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে। গ্রাহকদের সরাসরি আকর্ষণ করা যায়, বিধায় এই সেক্টরে পণ্য বিক্রির তুলনামূলক বেশি। তাই অনলাইনে বিজনেস পরিচালনা করতে গেলে অনলাইন মার্কেটিং সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে। 

Digital Marketing কি

বেশ কিছু সময় পূর্বেও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের পণ্যসমূহ কিংবা সার্ভিসসমূহ উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের নিকট গিয়ে পণ্যের প্রচারণা করতে হতো। সেই সময়ের পণ্যের প্রচারণার মাধ্যম ছিল বিলবোর্ড, বিজ্ঞাপন, লিফলেট কিংবা মাইকিং করা। কিন্তু মার্কেটিং এই সকল পদ্ধতি বেশ দীর্ঘমেয়াদী এবং সময় সাপেক্ষ বিধায় মানুষ পণ্যের মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে বহুদিন ধরে সন্ধানে ছিলেন বিকল্প পথের। 

ইন্টারনেটকে কাজে লাগিয়ে টার্গেট কাস্টমারের কাছে, কাঙ্ক্ষিত পণ্য পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমকে বলা হয় ডিজিটাল মার্কেটিং। ডিজিটাল মার্কেটিং বেশ স্বল্প সময়ে অধিক কাস্টমারকে রিচ করা যায় বিধায়, আমাদের সকলের চাহিদা অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর প্রতিষ্ঠান কিংবা বৃহৎ থেকে বৃহৎ প্রতিষ্ঠান তাদের নির্দিষ্ট পণ্য সমূহ টার্গেট কাস্টমারকে রিচ করার ক্ষেত্রে এবং মার্কেটিং করার ক্ষেত্রে উৎসাহী হচ্ছে এই পদ্ধতির উপর। 

সময়ের সাথে নতুন এই মার্কেটিং পদ্ধতি সকল প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করে দিয়েছে। এই পদ্ধতির ফলে ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয় পক্ষ বেশ লাভবান হচ্ছে। তাই বর্তমানে বহুল চর্চিত একটি বিষয় হল ডিজিটাল মার্কেটিং। 

মার্কেটিং কি

একটি ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর স্টার্ট-আপের ক্ষেত্রে, কিংবা বৃহত্তর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সফলতা নির্ভর করে তাদের সেলের উপর। কারণ কথায় আছে “প্রচারেই প্রসার বাড়ে”। আপনার প্রতিষ্ঠান যত বড় হোক না কেন, তার যদি পরিপূর্ণ প্রসার না হয়, তাহলে কোন ক্রেতা যেমন আপনার প্রোডাক্ট কিংবা সার্ভিস সম্পর্কে জানেনা, ঠিক তেমনি করে আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রোডাক্ট কেনার প্রতি আগ্রহ পোষণ করবে না। 

তাই প্রতিষ্ঠান যেমন হোক না কেন, প্রতিষ্ঠানের সফলতা পাবার মূল চালিকাশক্তি হল মার্কেটিং। কোন প্রতিষ্ঠান, কোনও ব্র্যান্ড কিংবা কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সেল বা সার্ভিসকে গ্রাহকদের টার্গেট করে প্রচারণার মাধ্যমে কেনার ক্ষেত্রে আগ্রহী করে তোলার কৌশলকে বলা হয় মার্কেটিং। আর আমরা সকলেই জানি যে, যেকোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সফলতার শিখরে উত্তীর্ণ করার ক্ষেত্রে বিকল্প নেই মার্কেটিং এর। 

মার্কেটিং এমন একটি মাধ্যমে যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান সমূহ তাদের পণ্যসমূহ সম্পর্কে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে তুলতে পারে। পণ্যসমূহের গুনাগুণ তুলে ধরতে পারে এবং পণ্যসমূহ কেনার ব্যাপারে গ্রাহকদের উৎসাহী করে তুলতে পারে। তাই ব্যবসা ক্ষেত্রে মার্কেটিংকে একটি মূল ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 

ডিজিটাল মার্কেটিং কি 

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ব্যবসা সেক্টরে এক নতুন দিগন্তের নাম হল ডিজিটাল মার্কেটিং। ইন্টারনেটকে কাজে লাগিয়ে, ডিজিটাল মাধ্যমে পণ্যের প্রচারণা চালিয়ে পণ্য সেল করার মাধ্যমকে বলা হয় ডিজিটাল মার্কেটিং। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকরা তাদের পণ্যসমূহ দেখে, যাচাই-বাছাই করে কেনার সুযোগ অর্জন করতে পারছে। 

ডিজিটাল মার্কেটিং মার্কেটিং সেক্টরের এক নতুন ধারণার নাম। যেখানে এখন ক্রেতা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে বেছে নিয়ে তার গ্রাহকদের কাছে তাদের কাঙ্ক্ষিত পণ্য পৌঁছে দিতে পারছে। প্রযুক্তির কল্যাণের ফলে মার্কেটিংয়ের এই পদ্ধতির ফলে ব্যবসায়ীরা আশার আলো দেখতে সক্ষম হচ্ছে। 

এক্ষেত্রে বিক্রেতারা কখনো সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে, ওয়েবসাইটের মাধ্যমে, ইমেইল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে, কন্টেট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে, ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পণ্যসমূহ গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। যেখানে একজন গ্রাহক তার কাঙ্ক্ষিত পণ্যসমূহ জেনে, বুঝে কেনার সুযোগ থাকে। তাই মার্কেটিংয়ের নতুন এই পদ্ধতিকে দল, মত, নির্বিশেষে সকলে সাধুবাদ জানাচ্ছে। 

ডিজিটাল মার্কেটিং কত প্রকার

বর্তমান সময়ে মার্কেটিং সেক্টরে, নতুন এক আশার আলোর নাম হল ডিজিটাল মার্কেটিং। এই পদ্ধতির উপর ভর করে বর্তমানে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান সমূহ ঢেলে সাজিয়েছে মার্কেটিং সেক্টরে। পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে তাই এক বিশাল প্রভাব বিস্তার করছে। 

ডিজিটাল মার্কেটিংকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেমন_

  • অনলাইন মার্কেটিং। 
  • অফলাইন মার্কেটিং। 

 চলুন জেনে নেওয়া যাক এই সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ সমূহ –

অনলাইন মার্কেটিং 

ইন্টারনেটকে কাজে লাগিয়ে, ডিজিটাল মাধ্যমে পণ্যের প্রচারণা চালানোর কৌশলকে বলা হয় অনলাইন মার্কেটিং। অনলাইন মার্কেটিং যে যে বিষয়ে ঘিরে পরিচালিত হয় তা হল –

অফলাইন মার্কেটিং 

অর্গানিক উপায়ে মার্কেটিং করার পদ্ধতিকে বলা হয় অফলাইন মার্কেটিং। অফলাইন মার্কেটিং যে যে বিষয় ঘিরে পরিচালিত হয় তা হল –

  • বিলবোর্ড বিজ্ঞাপন 
  • লিফলেট মার্কেটিং 
  • মোবাইল মার্কেটিং 
  • প্রিন্ট কিংবা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া 

ডিজিটাল মার্কেটিং কি কি শেখানো হয়

শুরুর দিকে ডিজিটাল মার্কেটিং বাইরের দেশে প্রচলিত থাকলেও বাংলাদেশের বাজারে একটু দেরিতেই প্রবেশ করেছে। বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠানসমূহ ডিজিটাল মার্কেটিংকে পুঁজি করে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই বাংলাদেশের ডিজিটাল মার্কেটিং সেক্টরে বিরাট প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। 

রাতারাতি সফলতার নেশায় অনেকেই এই সেক্টরে নিজেকে দক্ষ করে নিচ্ছে। আপনি যদি নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাতে চান কিংবা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং করতে চান আপনাকে সবার আগে শিখতে হবে ডিজিটাল মার্কেটিং। তাই আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে চান কিংবা ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার কথা ভাবছেন তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক এই কোর্সের এর আওতায় আপনাকে কি কি শেখানো হবে-

  • বিজনেস পেজ ওপেন  
  • বিজনেস পেজ রানিং এবং বুস্টিং 
  • পেইজ এঙ্গেইজমেন্ট 
  • এডভারটাইজমেন্ট 
  • কন্টেন্ট ডেভেলপার 
  • কন্টেন্ট মার্কেটিং 

ডিজিটাল মার্কেটিং কেন করব

বর্তমানে প্রযুক্তির প্রভাবে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের বিশ্ব। তাই প্রযুক্তির এই অগ্রযাত্রাকে ব্যবসা সেক্টরে বিস্তারের লক্ষ্যে আমাদের নিজেদের বিজনেসে মার্কেটিংয়ের নতুন এই পদ্ধতি ব্যবসা সেক্টরে বেশ আশার আলো বয়ে নিয়ে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা যায়। এই পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর এবং বৃহৎ থেকে বৃহত্তর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিজেদের মার্কেটিং সেক্টরকে ঢেলে সাজাতে পারবে। 

মার্কেটিং এর এই নতুন পদ্ধতির ফলে ছোট বড় সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লাভবান হতে পারবে। এই পদ্ধতির ফলে একজন গ্রাহক যেমন যাচাই- বাছাই করে তার কাঙ্ক্ষিত পণ্য কেনার সুবিধা পাবে, ঠিক তেমনি করে একজন বিক্রেতা তার পণ্যসমূহ উপযুক্ত বিক্রেতার কাছে উপস্থাপন করতে পারবে। তাই ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়ের কাছে বেশ লাভবান হল এই পদ্ধতি। 

আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্র হোক কিংবা বৃহৎ আপনার পণ্য কিংবা সার্ভিস সেল করার জন্য আপনি অবলম্বন করতে পারেন এই পদ্ধতি। যেখানে আপনি একই সাথে অধিক সংখ্যক গ্রাহকদের রিচ করার পাশাপাশি অধিক পরিমাণ আপনার পণ্য সমূহ সেল করতে পারবেন। মার্কেটিংয়ের প্রচলিত পদ্ধতিতে একসাথে একই সংখ্যক গ্রাহকের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব না হলেও এই পদ্ধতির মাধ্যমে তা করা সম্ভব। 

তাই স্টার্ট-আপ হোক, বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হোক, হাসপাতাল হোক কিংবা শিক্ষাপরিতস্থান হোক নিজেদের ব্যবসার ব্যাপ্ত বিস্তৃতিতে আজ বেছে নিচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিংকে। 

ডিজিটাল মার্কেটিং কেন শিখবো

বর্তমান সময়ে আমরা বাস করছি ডিজিটাল দুনিয়ায়। যেখানে আমাদের আশেপাশে লেগেছে প্রযুক্তির ছোঁয়া। বর্তমান সময়ে মানুষ নিজেদের ডিজিটাল জগতের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে অভ্যস্ত হচ্ছে ডিজিটাল মাধ্যমগুলোতে। তাই এই বিশাল সংখ্যক গ্রাহককে টার্গেট করে নিজেদের পণ্যসমূহ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানমূহের ডিজিটাল মার্কেটিং এর কৌশল রপ্ত করা বেশ প্রয়োজন। 

ডিজিটাল মার্কেটিং বর্তমান সমূহ বেশ চাহিদা সম্পন্ন একটি বিষয়। তাই আপনি যদি এই সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে চান সেক্ষেত্রে বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে। কেন শিখবেন ডিজিটাল মার্কেটিং চলা জেনে নেই –

  • নিজের প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য। 
  • ডিজিটাল মার্কেটিং ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য 
  • একজন মার্কেটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চাইলে। 
  • নিজের এজেন্সি প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে। 
  • এক্সপার্ট ইন্সট্রাক্টর হিসেবে ক্যারিয়ার গঠনে।।

নিজেকে তাই যুগের চাহিদার সাথে আপডেট করে নিতে হলে এই বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করা একান্ত  প্রয়োজন। 

ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শিখব

ডিজিটাল মার্কেটিং বর্তমান সময়ে বহুল আলোচিত এবং চর্চিত একটি বিষয়। অল্প সময়ে অধিক সংখ্যক গ্রাহকের কাছে তার কাঙ্ক্ষিত পণ্যসমূহ পৌঁছে দেওয়ার এক অসাধারণ উপায়ের নাম হল ডিজিটাল মার্কেটিং। তাই চাহিদা-সম্পন্ন এই বিষয়ে দিন দিন নতুন নতুন ক্ষেত্র যুক্ত হবার কারণে এই বিষয়ে পরিপূর্ণ শেখা বেশ জরুরি। 

ডিজিটাল মার্কেটিং আমাদের সকলের মধ্যে আগ্রহের কমতি নেই। এছাড়াও চাহিদা-বহুল হবার কারণে বয়স-ভেদে নির্বিশেষে এই বিষয়ে আগ্রহের পারদটা একটু বেশি। তাই এই বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি জানতে এবং সেই সাথে তা কাজে লাগাতে চাইলে আপনাকে দক্ষতা অর্জন করা জরুরি। 

ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার বেশ কিছু উপায় আছে। চলুন তাহলে সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক –

  • অনলাইনে কোর্স  
  • অপ্রাতিষ্ঠানিক কোর্স
  • ভিডিও টিউটোরিয়াল 
  • বই পরে 
  • ব্লগের 
  • ওয়েব-মিনার

ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার উপায়

কোন বিষয় সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান আরোহণ করতে হলে শেখার কোন বিকল্প নেই। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম নয়। আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটিং পরিপূর্ণভাবে শিখতে চান আপনাকে অবশ্যই ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স করে এই ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। 

বর্তমান সময়ে কোন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা হয়ে গেছে সহজ। তাই আপনি যদি এই বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে চান এবং পরিপূর্ণভাবে শিখে তা কাজে লাগাতে চান আপনি নিম্নোক্ত উপায়ে শিখতে পারেন চাহিদা-বহুল এই বিষয়টি-

  • অনলাইন কোর্স 

মোবাইল দিয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স 

  • ইউটিউব –

আজকাল আপনি চাইলে ঘরে বসে শিখতে পারবেন ডিজিটাল মার্কেটিং। অনলাইনে বসে ইউটিউবে আপনি পেয়ে যাবেন ডিজিটাল মার্কেটিং গুরুত্বপূর্ণ কিছু কোর্স। যা শিখে আপনি হয়ে উঠে পারবেন একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট। 

  • udemy 

সারা-বিশ্বব্যাপী প্রচলিত জনপ্রিয় একটি ই-লার্নিং সাইট হল udemy। আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটিং চান এখানে পেইড কোর্সের মাধ্যমে শিখতে পারবেন। 

  • coursera 

সারা বিশ্বেই প্রচলিত একটি জনপ্রিয় ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম cousera তে পেয়ে যাবেন ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স। এখানে আপনি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিয়ে শিখতে পারবেন আপনার পছন্দের কোর্স। 

  • 10 minute school 

বাংলাদেশের জনপ্রিয় একটি ই-লার্নিং প্রতিষ্ঠান হল এটি। এখানে আপনি সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় শিখতে পারবেন এই কোর্সটি। নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে শিখে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে ভর্তি হয়ে নিন আজই। 

  • Interactive cares 

সম্পূর্ণ ক্লাউড-ভিত্তিক একটি ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম । এখানে রয়েছে সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় ভিজি-টাল মার্কেটিং কোর্স। যা আপনার দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে। 

  • বহুব্রীহি 

জনপ্রিয় এই ই লার্নিং সাইটে আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে চাইলে, নির্দিষ্ট অর্থের ভিত্তিতে শিখে নিন, আপনার পছন্দমতো সেলফ ডেভেলপমেন্ট কোর্স। 

  • লার্নিং বাংলাদেশ 

জনপ্রিয় ই লার্নিং প্ল্যাটফর্ম হল লার্নিং বাংলাদেশ। যেখানে সেলফ ডেভেলপমেন্ট কোর্স করে আপনিও হয়ে যেতে পারবেন নির্দিষ্ট বিষয়ে এক্সপার্ট। 

  • লার্নিং এন্ড আর্নিং 

সরাসরি বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য একটি বিনামূল্যে ই লার্নিং প্রশিক্ষণ প্রকল্প হল লার্নিং এন্ড আর্নিং। এই প্রকল্পের অধীনে আপনি বিনামূল্যে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখে দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন। 

  • মুক্ত-পাঠ 

সরাসরি সরকারের অনুদানে প্রচলিত এই ই-লার্নিং প্লাটফর্মটি তরুণদের জন্য আয়োজন করছে বিভিন্ন ধরণের কোর্স। যা শিখে আপনি আপনার দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারবেন। 

  • ট্রেনিং সেন্টার 

আজকাল তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সেলফ ডেভেলপমেন্ট এর জন্য নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ধরণের কোর্স পরিচালনা করে। তাই আপনি যদি কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে চান তাহলে অবশ্যই এই সকল প্রতিষ্ঠানের অধীনে গিয়ে দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। 

ডিজিটাল মার্কেটিং এর সুবিধা

সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তনশীলতার ছোঁয়া লেগেছে আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে। তাই এই পরিবর্তন এর ধারায় নিজেকে আপডেট করে রাখা উচিত। যেহেতু বর্তমান বাজারে এই মার্কেটিং সেক্টর বেশ জোরালো স্থান দখল করে রেখেছে তাই সেক্টরে এই বিষয়ে শেখার কোন বিকল্প নেই। 

এই মার্কেটিং পদ্ধতির অত্যধিক সুবিধার কারণে আজকাল মানুষ এই সেক্টরে নিজের ক্যারিয়ার গঠন করতে উৎসাহী হচ্ছে। ব্যবসা সেক্টরে আমূল পরিবর্তন নিয়ে এসেছে এর প্রভাবে। তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক এই পদ্ধতির সুবিধানসমূহ সম্পর্কে –

  • খুব দ্রুত ব্র্যান্ডিং করা যায়- 

প্রতিষ্ঠান ছোট হোক কিংবা বড় এই পদ্ধতির মাধ্যমে একটি ব্র্যান্ড হিসেবে তৈরি করা যায়। একটি টার্গেট প্রোডাক্ট সেট করে সেই প্রোডাক্ট নিয়ে কাঙ্ক্ষিত গ্রাহকদের কাছে পরিচিতি তুলে ধরতে পি আর প্যাকেজের এর মাধ্যমে সেলেব্রিটিদের মাধ্যমে প্রডাক্ট মার্কেটিং করা যায়। এতে ছোট কিংবা বড় প্রতিষ্ঠান খুব সহজে নিজের একটি আলাদা পরিচয় তুলে ধরতে পারে এবং একটি ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হয়।

  • টার্গেট কাস্টমারকে রিচ করা যায় 

পুরনো মার্কেটিং পলিসিতে একই সাথে অধিক কাস্টমারকে রিচ করা প্রায় সম্ভব ছিল না। কিন্তু এই পদ্ধতির ফলে খুব সহজে একই সাথে একের অধিক কাস্টমারকে রিচ করা সম্ভব হয়। 

  • একই সঙ্গে অধিক গ্রাহকের কাছে পণ্যের প্রচারণা করা সম্ভব হয় 

একটি পণ্য একই সাথে আপনি যেমন অধিক সংখ্যক গ্রহের কাছে প্রকার করতে পারবেন সেই সাথে পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। আর তা শুধুমাত্র সম্ভব এই পদ্ধতির মাধ্যমে। যেখানে অর্গানিক উপায়ে আপনার তা বাস্তবায়ন করা কখনোই সম্ভব হবে না। কিন্তু এই পদ্ধতির মাধ্যমে আপনি খুব সহজে আপনার সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবেন। 

  • গ্রাহকদের আকৃষ্ট করা যায়

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে পণ্যমসূহের দোষ-গুন, অবস্থা, সুবিধা-সুবিধা সম্পর্কে-একজন গ্রাহক পণ্য নির্বাচন করতে পারে। এছাড়া কোন কারণে প্রোডাক্ট পছন্দ না হলে রিটার্ন পলিসি রয়েছে। তাই এই পদ্ধতির এই সুবিধার কারণে ক্রেতারা বেশি বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এছাড়া নানা ধরণের বিজ্ঞাপন প্রচারে ক্রেতাদের আগ্রহী করে তোলা যায় এই পদ্ধতির মাধ্যমে। 

  • তুলনামূলক কম বাজেটে মার্কেটিং করা যায়

মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে বাজেট খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। আপনার পণ্য গ্রাহকদের কাছে কখন, কিভাবে উপস্থাপন করবেন তা পুরোপুরি নির্ভর করে মার্কেটিংয়ের উপর। কিন্তু অন্যান্য মার্কেটিং পলিসিতে মোটা অংকের বাজেট ধরলেও এই সেক্টরে বাজেটের চাহিদা বেশ স্বল্প। তাই আপনি যদি মার্কেটিং করতে চান আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য বেছে নিতে পারেন এই পদ্ধতি। 

ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রধান স্তম্ভ কয়টি

ডিজিটাল মার্কেটিং বর্তমানে আমাদের দেশে এক বিরাট সম্ভাবনা দ্বার উন্মোচন করেছে। এই সম্ভাবনা খাতে বর্তমানে তরুণ থেকে শুরু করে সকল বয়সী মানুষেরা এগিয়ে এসেছে। এটি একটি বিরাট ক্ষেত্র হলেও মূলত ৩ টি স্তম্ভের উপর টিকে আছে এটি টিকে আছে। 

এই মার্কেটিং পদ্ধতির ৩ টি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হল –

  • ডিভাইস। 
  • ডাটা। 
  • অভিজ্ঞ ব্যক্তি। 
  • ডিভাইস 

নাম শুনলেই ধারণা করা যায় যে, মার্কেটিংয়ের নতুন এই পদ্ধতিটি মূলত ডিজিটাল মাধ্যমকে পুঁজি করে বিস্তৃতি পেয়েছে। তাই আপনি যদি এই সেক্টরে ডিজিটাল মার্কেটিং করতে চান, আপনার প্রয়োজন হবে উপযুক্ত ডিভাইস। যেমন -মোবাইল, কম্পিউটার, ল্যাপটপ কিংবা ট্যাবলেট। 

কারণ অনেকের কাছে সকল প্রকার ডিভাইস না থাকলেও আপনি মোবাইল দিয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং করতে পারবেন। তবে আপনার ডিভাইস এই পদ্ধতি পরিচালনা করা প্রায় অসমম্ভ বলা চলে। 

  • ডাটা 

ডিজিটাল মার্কেটিং করতে হলে আপনাকে সবার আগে ডাটা এনালাইসিস করা জানতে হবে। যেমন ধরুন গ্রাহকদের কি পছন্দ, গ্রাহকরা কোন সময়ে বেশি একটিভ থাকছে, আপনার কোন পোস্ট কিংবা গ্রাহকরা কোন ধরণের কন্টেন্ট বেশি পছন্দ করছে, গ্রাহকদের ডাটা এবং এক্টিভিটির হার এই সকল কিছু আপনাকে এনালাইসিস করতে হবে। তবে আপনি এই সেক্টরে এগিয়ে যেতে পারবেন। 

  • অভিজ্ঞ ব্যক্তি 

একজন মার্কেটিং এক্সপার্ট ছাড়া কখনো এই ডিটাল মার্কেটিং করা সম্ভব হবে না। তাই আপনি যে প্রতিষ্ঠানের মালিক কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হন না কেন আপনাকে এই বিষয়ে পরিপূর্ণ দক্ষতা অর্জন করতে হবে। পরিপূর্ণ দক্ষ ব্যক্তি ছাড়া সেক্টর পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব। 

ডিজিটাল মার্কেটিং কি কিভাবে করতে হয়

বর্তমান সময়ে সকল কিছুতেই মানুষ বেশ প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়েছে। তাই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পণ্যসমূহের সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রচারণা চালানোর কৌশলকে বলা হয় ডিজিটাল মার্কেটিং। বর্তমানে তাই ব্যাপক চর্চিত একটি বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে  মার্কেটিং সেক্টর এই পদ্ধতি। 

ডিজিটাল মার্কেটিং ক্ষেত্র ব্যাপক। তাই ডিজিটাল মার্কেটিং করার ক্ষেত্রে এক একজন গ্রাহকদের চাহিদা ঠিক এক এক রকম। তবে আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটিং করতে চান নিম্নোক্ত পদ্ধতির মাধ্যম করতে পারেন মার্কেটিংয়ের নতুন এই পদ্ধতি এবং সেই সাথে সেবার মা বৃদ্ধি করুন আপনার ব্যবসা সেক্টরের। 

ডিজিটাল মার্কেটিং নিম্নোক্ত বিষয়সমূহের মাধ্যমে পরিচালনা করা হয়-

  • সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন 
  • সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং 
  • কন্টেন্ট মার্কেটিং 
  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং 
  • ডিজিটাল ডিসপ্লে মার্কেটিং 
  • মোবাইল মার্কেটিং 
  • ইমেইল মার্কেটিং 
  • এফিলিয়েট মার্কেটিং 

ডিজিটাল মার্কেটিং এর ধাপ সমূহ

ডিজিটাল মার্কেটিং ৮ টি ধাপে কর্মকাণ্ড সম্পন্ন এ থাকে। চলুন তাহলে জেনে দেওয়া যাক এই  সম্পর্কে বিস্তারিত –

Search engine optimization ((SEO)

কোন প্রতিষ্ঠান তার পণ্যকে কিংবা ওয়েবসাইটকে গুগল সার্চ-পেইজের শুরুতে নিয়ে আসার প্রক্রিয়াকে বলা হয় সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন। বর্তমানে সকল প্রতিষ্ঠান তাদের মার্কেটিং ক্যাম্পেইন  এর ক্ষেত্রে ব্যবহার করছে এই পদ্ধতি। এই পদ্ধতির আলোকে প্রথমে কোম্পানিসমূহ নির্দিষ্ট কিওয়ার্ডের মাধ্যমে তাদের ওয়েবসাইটসমূহ র‍্যাংক এ নিয়ে আসে। যেখানে গ্রাহকগণ কোন পণ্য সম্পর্কে সার্চ করলে তা চলে আসে প্রথমে। তাই এই লিস্টে যার নাম আগে থাকবে পণ্য বিক্রির সম্ভাবনা সেই প্রতিষ্ঠানের বেশি থাকবে। 

তিনটি ভাগে SEO করা হয়। তা হল – থাকে-  

  • White hat SEO
  • Gray Hat SEO
  • Black  hat SEO

Search Engine Marketing  (SEM)

বহুল জনপ্রিয় একটি মার্কেটিং পদ্ধতি হল সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং। এই পদ্ধতির মাধ্যমে নির্দিষ্ট কি ওয়ার্ড রিসার্চ করে, সেই কি ওয়ার্ড অনুযায়ী কোন ক্রেতা সার্চ করলে যদি রেজাল্টের পাশে বিজ্ঞাপন দেখা যায় সেই পদ্ধতিকে বলা হয় সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং। এই একটি পেইড মার্কেটিং পদ্ধতি। তাই বড় বড় প্রতিষ্ঠান সমূহ এই পদ্ধতির মাধ্যমে  নিজেদের মার্কেটিং পরিচালনা করছে। 

Content marketing

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের সবচেয়ে বড় সুফল হল যে এই সেক্টরে একজন ক্রেতা যাচাই বাছাই করে পণ্য কেনার সুবিধা পায়। তাই যেকোনো কোম্পানির পণ্যসমূহ একটি আর্টিকেলের মাধ্যমে তুলে ধরার কৌশলকে বলা হয় কন্টেন্ট মার্কেটিং। কন্টেন্ট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে আপনি পণ্য ব্যবহার না করে তার সুফল এবং কুফল সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং নিশ্চিন্তে পণ্য কিনতে পারবেন। 

Social Media Marketing(SMM) 

বর্তমান যুগ তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগ। আর এই যুগে তাই নিজেদের প্রযুক্তির সাথে আপডেট রাখতে দিনের মানুষ বেশিরভাগ সময় অতিবাহিত করে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর এই ব্যাপারটি কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেমন-ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, টুইটারে প্রোডাক্ট মার্কেটিং করার পদ্ধতিকে বলা হয় সোশ্যাল মিডিয়ায় মার্কেটিং। 

Digital Display Marketing

বর্তমান সময়ে ডিজিটাল এই দুনিয়ায় আমাদের সকল কিছুতে ছোঁয়া লেগেছে প্রযুক্তির। তাই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ডিজিটাল বিলবোর্ড, ওয়েবসাইট, ডিজিটাল ব্যানার, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন প্রচার করার মাধ্যমকে বলা হয় ডিজিটাল ডিসপ্লে মার্কেটিং। এই পদ্ধতির মাধ্যমে কম সময়ে অধিক সংখ্যক গ্রাহকদের কাছে পণ্যের মার্কেটিং করা যায় এবং সেই সাথে খুব সহজেই গ্রাহকদের আকৃষ্ট করা যায়। তাই বড় বড় প্রতিষ্ঠানসমূহ থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানগুলো আজ মার্কেটিং করার ক্ষেত্রে বেছে নিচ্ছে এই পদ্ধতিকে। 

Mobile Marketing 

আজকাল মোবাইল দিয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং করা হয়ে উঠেছে বেশ সহজ। বর্তমানে সময়ের সাথে দিনদিন স্মার্ট-ফোন কিংবা মোবাইল ফোন ব্যবহারের প্রচলন বেশ বৃদ্ধি পাচ্ছে দ্বিগুণ হারে। প্রায় সকল বয়সী মানুষের কাছে আজ তাদের হাতে রয়েছে মুঠোফোন। তাই মোবাইল এর মাধ্যমে মার্কেটিং করার পদ্ধতিকে বলা হয় মোবাইল মার্কেটিং। 

মোবাইল মার্কেটিং ২ ভাগে করা হয় 

  • এসএমএস 
  • এমএমএস 

বাল্ক এসএমএসের মাধ্যমে পণ্যসমূহের বিবরণ গ্রাহকদের মুঠোফোনের পাঠিয়ে বিজ্ঞাপন করার প্রচলন বেশ আগে থেকে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে যারা স্মার্ট-ফোন ইউজার নয় তাদের কাছেও আপনি খুব সহজে আপনার প্রোডাক্ট মার্কেটিং করতে পারবেন। যেকোনো পণ্যের এমএমএস গ্রাহকদের কাছে পণ্যের বিবরণসহ পাঠিয়ে মার্কেটিং করার পদ্ধতির হল এমএমএস মার্কেটিং। 

Email Marketing 

প্রফেশানল জগতে যোগাযোগ রক্ষা করার ক্ষেত্রে একটি বড় বাজার দখল করে আছে ইমেইল। তাই পণ্যের মার্কেটিং এর জন্য ইমেইল হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমে। খুব সহজে পণ্যের প্রচারণা এবং পণ্যের বিবরণ টার্গেট কাস্টমারের কাছে মেইলের মাধ্যমে উপস্থাপন করার মাধ্যমকে বলা হয় ইমেইল মার্কেটিং। 

ইমেইল মার্কেটিং ৩ টি ধাপে সম্পন্ন হয়- 

  • ইমেইল টেমপ্লেট
  • ইমেইল কালেকশন 
  • ইমেইল ডেলিভারি
  • ইমেইল টেম্পলেট 

এই পদ্ধতির আলোকে একটি ইমেইল তৈরি  করা থাকে। আপনি শুধু আকর্ষণীয়ভাবে আপনার পণ্যের বিবরণসহ তুলে ধরে টেম্পলেট সাজাতে হবে। এমনভাবে আপনাকে ম্যাসেজ বডি সাজাতে হবে যাতে  আপনার গ্রাহকদের পণ্য কেনার ক্ষেত্রে  খুব সহজে আকর্ষণ করতে পারবেন। 

  • ইমেইল কালেকশান

এই পদ্ধতিতে আপনার আপনার টার্গেট কাস্টমারদের ইমেইল সংর্গঃ করতে হবে। ধরুন আপনি কোন কন্টেন্ট আয়োজন করেছেন সেখানে গুগল ফ্রম রেখেছেন সেখান থেকে কেউ সৈনাপন করলে আপনি আইডি পেয়ে যাচ্ছেন। এভাবে খুব সহজে আপনি বড় সংখ্যক ডাটা কলেটঃ করতে পারবেন। 

  • ইমেইল ডেলিভারি

খুব সহজে অধিক সংখ্যক গ্রাহকদের কাছে ইমেইল ডেলিভারি করতে হলে  SMTP smtp সার্ভার প্রয়োজন। তাই আপনি যদি ইমেইল মার্কেটিং করতে চান আপনি SMTP  সার্ভার কিনে একই সাথে অনেক গ্রাহকের ইমেইল মার্কেটিং করতে পারবেন। 

  • Affiliate Marketing

নিজের ওয়েবসাইটে কিংবা অন্য কারো ওয়েবসাইটে পণ্যসমূহ সেল করার মাধ্যমকে বলা হয় এফিলিয়েট মার্কেটিং। এক্ষেত্রে আপনাকে সেলের মাধ্যমে কমিশন পাওয়া যায় এবং যেকোনো পণ্যসমূহ ইন্ডিরেক্ট মার্কেটিং করা যায়। 

ডিজিটাল মার্কেটিং কেন প্রয়োজন?

ধরুন আপনি একটি ব্যবসা শুরু করেছে প্রথমদিকে হয়তো আপনার পরিচিত গুটিকয়েক মানুষ জানছে। তারাই কিছু কিছু পণ্য কিনছে। কিন্তু আপনি যদি আপনার সেই ব্যবসাকে সম্প্রসারণ করার কথা কিংবা বড় পরিসরে তুলে ধরার কথা চিন্তা করে থাকেন তাহলে আপনার ডিজিটাল মার্কেটিং প্রয়োজন। 

কোন একটি প্রতিষ্ঠান ব্র্যান্ডিং এর মাধ্যমে নিজের পরিচিতি এবং সার্ভিস তুলে ধরার জন্য এই মার্কেটিং পদ্ধতি প্রয়োজন। এই পদ্ধতির মাধ্যমে ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান সমূহ যেমন বড় হবার সুযোগ পায় ঠিক তেমনি করে বড় বড় প্রতিষ্ঠানসমূহ লাভবান হতে পারে। 

তাই যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে সফলতার উচ্চাসীন আসনে অধিষ্ঠিত করতে হলে ডিজিটাল মার্কেটিং প্রয়োজন।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর ভবিষ্যৎ কি?

সময়ের সাথে,যুগের চাহিদার সাথে খাপ খাইয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা প্রয়োজন। বর্তমান সময়ে চলছে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের জয়যাত্রা। এই জয়যাত্রায় নিজেকে সম্পৃক্ত করতে হলে এই বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের বিকল্প নেই। 

এটি এমনি একটি চাহিদাসম্পন্ন বিষয় যার মধ্যে উজ্জ্বল হবে ভবিষ্যতে এক অমিত সম্ভাবনার দুয়ার। আপনি যদি এই বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেন তাহলে আপনি ঘরে বসে সফলতার সাথে নিজের স্টার্ট-আপ অথবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে পারবেন। 

আপনি যদি এই সেক্টরে নিজের ক্যারিয়ার গঠন করেন তাহলে একজন এক্সপার্ট ডিজিটাল মার্কেটার হয়ে বিভিন্ন কনসালটেন্সি ফার্মের সাথে কাজ করতে পারবেন। 

ঘরে বসে আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা আয় করতে পারবেন। ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যারিয়ার গঠন করলে আপনাকে আর পেচে ফায়ার তাকাতে হবে না। বরং ঘরে বসে আপনি একজন ইন্সট্রাক্টর হবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বিভিন্ন সোশ্যাল সাইটে আয় করতে পারবেন লক্ষাধিক টাকা। 

এই সকল সুবিধা আপনি উপভোগ করতে পারবেন শুধুমাত্র এই বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করলে। তাই আর দেরি কেন আজই রপ্ত করুন ডিজিটাল মার্কেটিং। 

ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে কতদিন লাগে

বর্তমান সময়ে বেশ আলোচিত এবং একটি চর্চিত বিষয় হল ডিজিটাল মার্কেটিং। তরুণ প্রজন্মের কাছে এক আকর্ষণের বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই আপনি যদি একজন ডিজিটাল মার্কেটের হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চান আপনাকে অবশ্যই এই বিষয়ে ভালোভাবে রপ্ত করতে হবে। 

আমরা ইতিমধ্যে ডিজিটাল মার্কেটিং এর সেক্টরগুলো সম্পর্কে ধারণা পেয়েছি। তাই আপনি যদি ইতিমধ্যে এই বিষয়ে কোর্স করছেন কিংবা কোর্স করার কথা চিন্তা করছেন আপনার কাছে সবচেয়ে যে বিষয়টি কঠিন মনে হতে পারেন তা হল এসইও। আর এই বিষয়টি শিখতে অনেকের বেশ সময় লাগে পারে। 

তবে আপনি যদি প্রতিদিন অন্তত ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় দেন এবং যা শিখেছেন তা যদি  নিয়মিত চর্চা করেন আপনি ৪-৫ মাসের মধ্যে এই বিষয়ে পরিপূর্ণ অভিজ্ঞ হয়ে উঠবেন। তবে একেক জনের রপ্ত করার কৌশল এবং পরিশ্রম এবং সময় দেওয়ার উপর ভিত্তি করে তার সময় কমবেশি লাগতে পারে। 

ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স বাংলা

বর্তমান সময়ে বেশ আলোচিত একটি মাধ্যম হল ডিজিটাল মার্কেটিং। এ মাধ্যমে ভর করে আজকাল বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠানসমূহ সফলতার উচ্চাসীন আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। তাই বাংলাদেশের ডিজিটাল মার্কেটিং সম্প্রসারণ হচ্ছে। 

ডিজিটাল মার্কেটিং ধারণাটি বাইরের দেশের হলেও আমাদের দেশে এই বিষয়টি রীতিমত আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তাই আপনি যদি এই বিষয়টি সম্পর্কে জানতে এবং বুঝতে চান আপনাকে অবশ্যই শিখতে হবে এই বিষয়টি সম্পর্কে। ডিজিটাল মার্কেটিং ধারণাটি আমাদের জন্য সহজ এবং বোধগম্য করার জন্য কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স বাংলা চালু করেছে। 

চলুন তাহলে জেনে নেই কোন কোন প্রতিষ্ঠান বাংলায় ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স চালু করেছে –

  • লার্নিং এন্ড আর্নিং 
  • মুক্ত-পাঠ 
  • ১০ মিনিট স্কুল 
  • ইন্টারেক্টিভ কেয়ার 
  • বহুব্রীহি 
  • লার্নিং বাংলাদেশ 
  • Creative IT
  • Coderstrust Bangladesh  
  • ই শিখন 
  • শিখবে সবাই 

আলোচিত প্রতিষ্ঠান্সমূহ সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় নিয়ে থাকে এই বিষয়ে উপর কোর্স। তাই আপনার যদি জানার আগ্রহ থাকে আজই ভর্তি হয়ে নিন আপনার পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স।

Leave a Reply

Your email address will not be published.